কংগ্রেসের অন্দরে কি ফের অস্বস্তির ঢেউ? দলের অন্দরে শীতল হাওয়া বইছে—এমনই ইঙ্গিত মিলছে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক গতিবিধিতে। কংগ্রেস হাইকমান্ডের মেরুদণ্ড দিয়ে যেন শীতল স্রোত বইয়ে দিচ্ছেন দলেরই কয়েকজন প্রবীণ ও প্রভাবশালী নেতা। প্রশ্ন উঠছে, তবে কি ফের সংগঠিত হচ্ছে রাহুল গান্ধী বিরোধী শিবির?এই সম্ভাব্য শিবিরে উঠে আসছে কেরলের সাংসদ শশী থারুর, রাজ্যসভার সাংসদ দিগ্বিজয় সিং এবং মধ্যপ্রদেশের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী কমল নাথের নাম। দলের একাংশের দাবি, এঁদের প্রকাশ্য অবস্থানের আড়ালে রয়েছে আরও বেশ কয়েকজন শীর্ষনেতার নীরব সমর্থন। আর সেই কারণেই দলের অন্দরে শুরু হয়েছে জল্পনা ও কাটাকুটি।ঘটনার সূত্রপাত শশী থারুরকে ঘিরেই। সাম্প্রতিক সময়ে তাঁর একাধিক বক্তব্য ও কর্মকাণ্ড দলীয় অবস্থানের সঙ্গে বেসুরো হয়ে উঠেছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে দিগ্বিজয় সিংয়ের নাম। শনিবার নিজের এক্স হ্যান্ডেলে আরএসএসের সাংগঠনিক শক্তির প্রশংসা করে লালকৃষ্ণ আডবানীর সামনে বসে থাকা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির একটি ছবি পোস্ট করেন দিগ্বিজয়। তার আগে তিনি কংগ্রেসের সংগঠন ও রাহুল গান্ধীর নেতৃত্ব নিয়েও প্রশ্ন তুলেছিলেন। তাঁর বক্তব্য—দলের ভিতরে ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ জরুরি, কিন্তু শীর্ষ নেতৃত্ব তা বুঝতে পারছে না।রবিবার এই বক্তব্যে কার্যত সমর্থন জানান শশী থারুর। দিল্লিতে কংগ্রেসের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, তিনিও চান দলীয় সংগঠন আরও শক্তিশালী হোক। রাজনৈতিক মহলের মতে, এই প্রথম কোনও ইস্যুতে প্রকাশ্যে একে অপরের পাশে দাঁড়ালেন থারুর ও দিগ্বিজয়।এতেই জল্পনা আরও ঘনীভূত। দুই নেতার লক্ষ্য কি তবে রাহুল গান্ধীর নেতৃত্ব? শুধু কি এই দু’জনই, না কি তাঁদের সঙ্গে রয়েছেন আরও অনেকে? সূত্রের দাবি, এই বিক্ষুব্ধ অংশের পিছনে রয়েছেন প্রাক্তন অর্থমন্ত্রী পি চিদম্বরম এবং কমল নাথ। এমনকি বাংলার প্রাক্তন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরিকেও সন্দেহের তালিকায় রেখেছে হাইকমান্ড।এর আগে গুলাম নবি আজাদের নেতৃত্বে যে বিদ্রোহী গোষ্ঠী তৈরি হয়েছিল, তা নিয়ন্ত্রণে আনতে হিমশিম খেতে হয়েছিল কংগ্রেসকে। তাই নতুন করে থারুর-দিগ্বিজয় জুটি কোনও নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি করে কি না, সেদিকেই এখন নজর রাজনৈতিক মহলের।

