শনিবার পশ্চিম এশিয়ায় ফের যুদ্ধের দামামা। আকাশপথে সিরিয়া জুড়ে অন্তত ৩৫টি লক্ষ্যবস্তুতে ভয়াবহ হামলা চালাল আমেরিকা। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড সূত্রে খবর, ইসলামিক স্টেটস বা আইএসআইএস-এর একাধিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয় স্থানীয় সময় দুপুর প্রায় ১২টা ৩০ মিনিট নাগাদ। সর্বভারতীয় ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলিও এই হামলার কথা নিশ্চিত করেছে।
সূত্রের দাবি, এই হামলা প্রতিশোধমূলক। সম্প্রতি আইএসআইএসের হামলায় নিহত হন দুই মার্কিন সেনা—সার্জেন্ট এডগার ব্রায়ান টরেস-টোভার ও সার্জেন্ট উইলিয়াম নাথানিয়েল হাওয়ার্ড। পাশাপাশি প্রাণ হারান এক আমেরিকান বেসামরিক দোভাষী আয়াদ মনসুর সাকাত। সেই ঘটনার পরই সিরিয়ায় আইএস জঙ্গিদের বিরুদ্ধে এই বড়সড় সামরিক অভিযান চালানো হলো।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের মুখপাত্র এই হামলার কথা জানিয়ে বলেন, সিরিয়া জুড়ে ইসলামিক স্টেটের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটি, অস্ত্র মজুতের স্থান এবং লজিস্টিক কেন্দ্র লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। তাঁর কথায়,
“আমাদের বার্তা একদম স্পষ্ট। যদি কেউ আমাদের সেনা বা নাগরিকদের ক্ষতি করে, তাহলে আমরা তাকে খুঁজে বের করব এবং বিশ্বের যেকোনও প্রান্তে গিয়ে শাস্তি দেব। কেউই ন্যায়বিচার এড়িয়ে যেতে পারবে না।”
জানা গেছে, এই হামলা ‘অপারেশন হকআই স্ট্রাইক’-এর অংশ। এই সামরিক অভিযান শুরু হয়েছিল ১৯ ডিসেম্বর ২০২৫, তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে। শুধু আমেরিকাই নয়, জানুয়ারিতে এই হামলার আগে সিরিয়ায় ব্রিটেন ও ফ্রান্স যৌথভাবে হামলা চালিয়েছিল। অভিযোগ, আইএস জঙ্গিরা অস্ত্র মজুতের জন্য যে ভূগর্ভস্থ স্থাপনাগুলি ব্যবহার করছিল, সেগুলিকেই নিশানা করা হয়।
এদিকে, সিরিয়ায় এই মার্কিন হামলার প্রেক্ষাপটে নতুন করে আলোচনায় উঠে আসছে ইরান প্রসঙ্গ। পশ্চিম এশিয়ায় উত্তেজনা বাড়ার মাঝেই ইরানে তীব্র আকার নিয়েছে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ। অর্থনৈতিক মন্দা, মূল্যবৃদ্ধি ও বেকারত্বের জেরে গত মাস থেকেই ইরানের পরিস্থিতি অস্থির হয়ে উঠেছিল।
এই আবহেই সামনে আসছে ইরানের নির্বাসিত যুবরাজ রেজা পহলভীর নাম। সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা সৈয়দ আলি হোসেইনি খামেনেইয়ের বিরুদ্ধে তাঁর বক্তব্যের পরই বিক্ষোভ আরও জোরদার হয়। পরিস্থিতি এতটাই নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় যে, একসময় দেশজুড়ে ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয় ইরান সরকার।
রেজা পহলভীর আহ্বানের পর বৃহস্পতিবার রাতে তেহরান, মাশহাদ-সহ একাধিক বড় শহরে হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় নেমে আসে। বিক্ষোভকারীরা ধর্মীয় নেতৃত্বের বিরুদ্ধে স্লোগান দিতে থাকেন। বৃহস্পতিবার রাত থেকে শুক্রবার সকাল পর্যন্ত চলে মিছিল ও প্রতিবাদ।
একদিকে অশান্ত ইরান, অন্যদিকে সিরিয়া জুড়ে আইএস জঙ্গি ঘাঁটিতে আমেরিকা সেন্ট্রাল কমান্ড ও মিত্রবাহিনীর যৌথ হামলা—সব মিলিয়ে ফের উত্তপ্ত হয়ে উঠছে পশ্চিম এশিয়া। এই পরিস্থিতি আগামী দিনে কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকেই তাকিয়ে আন্তর্জাতিক মহল।
ফের যুদ্ধের মেঘ সিরিয়ায়, আইএস টার্গেট করে একের পর এক হামলা আমেরিকার
