বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যমে ফের চাঞ্চল্যকর বিতর্ক। ঢাকায় অবস্থিত ‘গ্লোবাল টিভি’ বাংলাদেশের তেজগাঁও অফিসে গিয়ে নিউজ হেড নাজনিন মুন্নিকে অপসারণের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। জানা গিয়েছে, এই সপ্তাহের শুরুতেই ৭–৮ জন যুবক নিজেদের ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন’-এর সমর্থক পরিচয় দিয়ে গ্লোবাল টিভির অফিসে হাজির হন। তাঁরা নাজনিন মুন্নিকে অবিলম্বে চাকরি ছাড়ার হুমকি দেন। অন্যথায় তাঁদের পরিণতি ‘প্রথম আলো’ ও ‘দ্য ডেলি স্টার’-এর মতো হবে বলেও সতর্ক করা হয়।
অভিযোগ, ওই যুবকদের দাবি—নাজনিন মুন্নি জনপ্রিয় টিভি উপস্থাপক হলেও তিনি আওয়ামি লিগের সমর্থক ছিলেন, যা মেনে নেওয়া হবে না। এ প্রসঙ্গে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সভাপতি রিফাত রশিদ স্বীকার করেছেন, তিনি গ্লোবাল টিভির অফিসে গিয়েছিলেন এবং সংগঠনের এক সদস্যের বিষয়ে একটি স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছিল। তবে সরাসরি হুমকির অভিযোগ নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
নাজনিন মুন্নি বাংলাদেশের পরিচিত সংবাদকর্মী। চলতি বছরের জুলাই মাসে তিনি গ্লোবাল টিভিতে নিউজ হেড হিসেবে যোগ দেন। এর আগে তিনি ডিবিসি নিউজ চ্যানেলে অ্যাসাইনমেন্ট এডিটরের দায়িত্বে ছিলেন। ঘটনার পর ফেসবুকে এক পোস্টে নাজনিন মুন্নি লেখেন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মহানগর শাখার নাম করে কয়েকজন যুবক তাঁর অফিসে এসে হুমকি দিয়ে গিয়েছে। চাকরি না ছাড়লে অফিসে ‘প্রথম আলো’ ও ‘দ্য ডেলি স্টার’-এর মতো আগুন ধরিয়ে দেওয়ার কথাও বলা হয় বলে অভিযোগ।
উল্লেখ্য, গত ১৮ ডিসেম্বর রাতে ওসমান হাদির মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর বাংলাদেশের বিভিন্ন জায়গায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। সেই সময় ঢাকায় প্রথম আলো ও দ্য ডেলি স্টারের অফিসে হামলা চালায় একদল উন্মত্ত জনতা। ভাঙচুরের পর সংবাদমাধ্যমের ওই অফিসে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। এই প্রেক্ষাপটেই গ্লোবাল টিভির নিউজ হেডকে হুমকির অভিযোগ নতুন করে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।
বাংলাদেশের এক নিউজ চ্যানেলে বিতর্ক: হেড মুন্নিকে সরানোর হুমকি, উঠল ‘প্রথম আলো’ প্রসঙ্গ
