নয়াদিল্লি, ১২ ডিসেম্বর: মার্কিন শুল্কের প্রভাবে ভারতীয় টেক্সটাইল ও রেডিমেড পোশাক রপ্তানি যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সে জন্য বহুমুখী কৌশল নিচ্ছে কেন্দ্র। শুক্রবার এক সরকারি বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে সক্রিয় আলোচনার পাশাপাশি রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া-র মাধ্যমে দ্রুত বাণিজ্য–সহায়তা পদক্ষেপ গ্রহণ, রপ্তানি-সংক্রান্ত ক্রেডিট গ্যারান্টি স্কিম এবং নতুন রপ্তানি প্রচার মিশন চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
রাজ্যসভায় লিখিত জবাবে বস্ত্র প্রতিমন্ত্রী পবিত্র মার্ঘেরিটা জানান, জিএসটি সংস্কারসহ একাধিক রপ্তানিমুখী পদক্ষেপ গৃহীত হচ্ছে মার্কিন শুল্কের আঘাত মোকাবিলায়।
বস্ত্র মন্ত্রক জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ছাড়াও অন্যান্য দেশের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি সম্পাদন, বিদ্যমান এফটিএগুলির আরও কার্যকর ব্যবহার এবং রপ্তানিকারক, রপ্তানি প্রমোশন কাউন্সিল ও এমএসএমই-র সঙ্গে ধারাবাহিক পরামর্শ চলছে।
এপ্রিল–অক্টোবর ২০২৫ সময়ে ভারতের টেক্সটাইল ও পোশাক (হ্যান্ডিক্রাফটসহ) রপ্তানি দাঁড়িয়েছে ২০,৪০১.৯৫ মিলিয়ন ডলার, যা আগের বছরের তুলনায় মাত্র ১.৮ শতাংশ কম। সরকার জানিয়েছে, বৈশ্বিক শুল্কসংক্রান্ত চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও রপ্তানি মোটের ওপর স্থিতিশীল রয়েছে।
এফওয়াই২৫ অর্থবছরে মোট রপ্তানি ছিল ৩৭,৭৫৫ মিলিয়ন ডলার, যা এফওয়াই২৪ সালের তুলনায় ৫.২ শতাংশ বেশি।
এপ্রিল–অক্টোবর সময়ে ভারত ১০০-রও বেশি দেশে ইতিবাচক রপ্তানি বৃদ্ধি অর্জন করেছে—সংযুক্ত আরব আমিরাত, যুক্তরাজ্য, জার্মানি, স্পেন, ফ্রান্স, ইতালি, চীন, সৌদি আরব, মিশর ও জাপানসহ।
রপ্তানির প্রতিযোগিতা বাড়াতে তামিলনাড়ু, তেলেঙ্গানা, গুজরাট, কর্নাটক, মধ্যপ্রদেশ, উত্তরপ্রদেশ ও মহারাষ্ট্রে সাতটি পিএম মিত্র পার্ক স্থাপন করা হচ্ছে বলে সরকার জানিয়েছে।
এছাড়া, বস্ত্রখাতের উৎপাদন-সংযুক্ত প্রণোদনা প্রকল্পে ১০,৬৮৩ কোটি টাকার বরাদ্দ এবং দক্ষতা উন্নয়ন ও গবেষণা কর্মসূচি ‘সমর্থ’–এর মাধ্যমে ৫.৪০ লাখ উপভোক্তাকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।
সরকার জানিয়েছে, পণ্যের বৈচিত্র্য, মান, চাহিদা ও চুক্তিগত ব্যবস্থাপনা—এই সবকিছুর উপর নির্ভর করবে মার্কিন প্রতিশোধমূলক শুল্কের প্রকৃত প্রভাব।
