সালেমা এলাকায় লিপিকা হত্যাকাণ্ডে চাঞ্চল্যকর মোড়। এই নির্মম হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে অমর দাস নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে সালেমা থানার পুলিশ। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, জিজ্ঞাসাবাদের সময় অভিযুক্ত অমর দাস এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত থাকার কথা স্বীকার করেছে।
পুলিশের কাছে দেওয়া স্বীকারোক্তিতে অমর দাস জানিয়েছে, ঘটনার দিন সন্ধ্যা আনুমানিক সাতটা নাগাদ সে এবং সুজিত নমঃ নামে এক গৃহশিক্ষক বাইকে করে ঘটনাস্থলে আসে। পূর্বপরিকল্পিতভাবেই লিপিকার ওপর হামলা চালানো হয় বলে পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে। অভিযুক্তদের দাবি অনুযায়ী, লিপিকাকে লোহার রড দিয়ে মাথায় আঘাত করে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। ঘটনার পরপরই অমর দাস ও সুজিত নমঃ বাইকে করে কমলপুর গাড়ো এলাকায় পালিয়ে যায়।
ঘটনার পরদিন সকালেই মূল অভিযুক্ত সুজিত নমঃ এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায় বলে পুলিশ নিশ্চিত করেছে। এরপর তদন্তে নেমে পুলিশ অমর দাসকে আটক করে এবং আদালতের অনুমতিক্রমে তাকে পুলিশ রিমান্ডে নেওয়া হয়। রিমান্ড চলাকালীন জিজ্ঞাসাবাদে অমর দাস সুজিত নমঃ-এর সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কথাও স্বীকার করে।
পুলিশ জানায়, জিজ্ঞাসাবাদের সময় অমর দাস আরও একাধিক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেয়, যা তদন্তকে সঠিক পথে এগিয়ে নিতে সহায়তা করছে। অভিযুক্তের দেখানো মতে পুলিশ তাকে সঙ্গে নিয়ে ঘটনাস্থলে যায় এবং হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত লোহার পাইপটি কোথায় লোপাট করা হয়েছিল, তা শনাক্ত করে। ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে সেই লোহার পাইপ উদ্ধার করা হয়েছে এবং তা সালেমা থানায় নিয়ে আসা হয়েছে।
পুলিশের দাবি, উদ্ধার হওয়া আলামত এই মামলায় গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে ব্যবহৃত হবে। পাশাপাশি অভিযুক্তের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ঘটনার পেছনের উদ্দেশ্য ও পরিকল্পনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
তবে এখনও পর্যন্ত এই হত্যাকাণ্ডের মূল অভিযুক্ত সুজিত নমঃ পলাতক রয়েছে। তার সন্ধানে পুলিশ বিভিন্ন সম্ভাব্য এলাকায় তল্লাশি অভিযান জোরদার করেছে। পুলিশ আশাবাদী, খুব শীঘ্রই তাকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হবে।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে গোটা সালেমা এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। পুলিশ পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখছে এবং তদন্ত দ্রুত সম্পন্ন করার আশ্বাস দিয়েছে।
