শুক্রবার ৮ মে : মধ্যমগ্রামে বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারীর আপ্তসহায়ক চন্দ্রনাথ রথ খুনকাণ্ডে তদন্তে বড় অগ্রগতি। খুনে ব্যবহৃত দ্বিতীয় বাইকটিও উদ্ধার করেছে পুলিশ। বারাসতের ১১ নম্বর রেলগেটের ধারে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে ছিল বাইকটি। পুলিশের অনুমান, খুনের পর দুষ্কৃতীরা ওই বাইকে করেই সেখানে পৌঁছে যান এবং পরে অন্য কোনও যানবাহনে পালিয়ে যায়।
ইতিমধ্যেই এই ঘটনায় রাজ্য পুলিশ বিশেষ তদন্তকারী দল বা সিট গঠন করেছে। তদন্তে রয়েছে এসটিএফ এবং সিআইডির আধিকারিকরাও। বৃহস্পতিবার মধ্যমগ্রাম এলাকা থেকেই উদ্ধার হয়েছিল প্রথম বাইকটি। তবে তদন্তকারীদের সন্দেহ, বাইকগুলিতে ব্যবহার করা হয়েছিল ভুয়ো নম্বরপ্লেট। শুধু তাই নয়, বাইকের ইঞ্জিন নম্বরও ঘষে অস্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছিল, যাতে তদন্তকে বিভ্রান্ত করা যায়।
উল্লেখ্য, বুধবার রাতে মধ্যমগ্রামে নিজের আবাসনের সামনে গুলিবিদ্ধ হন চন্দ্রনাথ রথ। অভিযোগ, তাঁর গাড়ির সামনে প্রথমে একটি চারচাকা গাড়ি এসে দাঁড়ায়। এরপর দু’দিক থেকে দুটি বাইকে করে এসে দুষ্কৃতীরা পরপর গুলি চালায়। ঘটনাস্থলেই ঝাঁঝরা হয়ে যান চন্দ্রনাথ। তাঁর গাড়ির চালকও গুরুতর জখম হন এবং বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
পুলিশ সূত্রে খবর, এই হত্যাকাণ্ডে সুপারি কিলার ব্যবহার করা হয়ে থাকতে পারে। প্রায় এক থেকে দেড় মাস আগে থেকেই খুনের ছক কষা হয়েছিল বলে অনুমান তদন্তকারীদের। কারা এই খুনের পরিকল্পনা করেছিল, কারা চন্দ্রনাথের গতিবিধির তথ্য পাচার করেছিল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তে উঠে এসেছে ভিন্রাজ্যের যোগের সম্ভাবনাও। সূত্র খুঁজতে ইতিমধ্যেই ভিন্রাজ্যে গিয়েছে সিটের একটি দল।
এদিকে এই হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক চাপানউতোরও তীব্র হয়েছে। বিজেপির পক্ষ থেকে তৃণমূলের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলা হয়েছে। যদিও এখনও পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করা যায়নি। সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে পুলিশ।
